Register Now

Login

Lost Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

Captcha Click on image to update the captcha .

হলদিয়া বন্দর গড়ে ওঠার কারণ কী?

হলদিয়া বন্দর গড়ে ওঠার কারণ

(১) হুগলি নদীর নাব্যতা হ্রাস

বর্তমানে হুগলি নদী পথে পলি জমে যাওয়ায় বিশালাকার সমুদ্রগামী জাহাজগুলো কলকাতা বন্দরে প্রবেশ করতে পারে না। তাই আসন্ন অবলুপ্তির হাত থেকে কলকাতা বন্দরকে বাঁচাতে এবং পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতির স্বার্থে কলকাতা বন্দরের সহযোগী বন্দর হিসেবে হলদিয়া বন্দরকে গড়ে তোলা হয়েছে।

(২) জলের গভীরতা

হলদিয়া বন্দরের কাছে হুগলি নদীর গভীরতা (সারা বছর প্রায় ১০ মিটার বা ৩০ ফুট) বন্দর গঠনের পক্ষে অনুকূল। কলকাতা বন্দরের তুলনায় হলদিয়া বন্দরে জলের গভীরতা অনেক বেশি হওয়ায় যে সমস্ত বড়ো বড়ো জাহাজগুলো কলকাতা বন্দরে আসতে পারে না, তারা হলদিয়া বন্দরে মাল খালাস করে।

(৩) হলদিয়া বন্দরগামী সরল নদীপথ

বঙ্গোপসাগর থেকে কলকাতা বন্দরে আসতে জাহাজগুলোকে যেখানে প্রায় ১৫টি বালুচর এবং অনেক বাঁক অতিক্রম করে আসতে হয়, সেক্ষেত্রে মাত্র ৩টি বালুচর অতিক্রম করেই জাহাজগুলো প্রায় সরলপথে হলদিয়া বন্দরে আসতে পারে।

(৪) উন্নত পশ্চাদভূমি

কলকাতা বন্দরের সহযোগী বন্দর হিসেবে গড়ে ওঠায় বর্তমান কলকাতা বন্দরের পশ্চাদভূমিই হলদিয়া বন্দরের পশ্চাদভূমিতে পরিণত হয়েছে। কলকাতা তথা হলদিয়া বন্দরের পশ্চাদভূমি হল ভারতের সবচেয়ে জনবহুল এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পোন্নত অঞ্চল।

(৫) উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা

যেহেতু কলকাতা বন্দর থেকে হলদিয়া বন্দরের দূরত্ব খুবই কম সেইজন্য আজকাল অনেক জাহাজ কলকাতা বন্দর পর্যন্ত না এসে সরাসরি হলদিয়া বন্দরেই তাদের মাল খালাস করে। তাদের আনা মালপত্র রেলপথ ও সড়কপথে কলকাতায় পৌঁছোয়, ফলে কলকাতা বন্দরে আসার জন্য জাহাজগুলোকে পাইলট জাহাজের সাহায্য নিয়ে বঙ্গোপসাগরের মোহনা থেকে প্রায় ১২৮ কিলোমিটার নদীপথ অতিক্রম করতে হয় না, এতে জাহাজগুলোর সময় ও অর্থ দুইই বাঁচে। একই ভাবে অনেক পণ্য দ্রব্য যাদের আগে কলকাতা বন্দরের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করা হত, তাদের এখন সড়ক ও রেলপথে হলদিয়ায় এনে হলদিয়া বন্দর থেকে জাহাজযোগে বিদেশে রপ্তানি করা হয়।

(৬) বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পাঞ্চল

হলদিয়াতেই ভারতের সর্বপ্রথম বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে হলদিয়া বন্দরের দ্রুত উন্নতি ঘটেছে।

(৭) সুলভ শিল্পজাত কাঁচামাল

উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে রেলপথ, জলপথ এবং সড়কপথে যুক্ত হওয়ার জন্য নিকটবর্তী ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশারাজ্য থেকে (ময়ূরভঞ্জ, কেওনঝড়, সিংভূম) লৌহ আকরিক ; রানীগঞ্জ-ঝড়িয়া অঞ্চল থেকে উৎকৃষ্ট কয়লা : চুনাপাথর (ওড়িশার গাংপুর ও বীরমিত্রপুর); ম্যাঙ্গানীজ (ওড়িশার গাংপুর ও বোনাই) সহজলভ্য হওয়ার জন্য তা হলদিয়া বন্দরের মাধ্যমে সহজেই সমুদ্রপথে বিদেশে রপ্তানি করা যায়।

(৮) হলদিয়া বন্দরে গড়ে তোলা আধুনিক ব্যবস্থাসমূহ

জাহাজে মাল ওঠানো এবং নামানোর জন্য কন্টেনার সার্ভিসসহ যান্ত্রিক পরিবহন ব্যবস্থা হলদিয়া বন্দরের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই বৈশিষ্ট্যের জন্য ভারতের অন্যান্য বন্দরের তুলনায় হলদিয়া বন্দরে অনেক কম শ্রমিকের সাহায্যে তুলনামূলকভাবে অনেক কম সময়ে জাহাজে মাল ওঠানো এবং নামানো যায়।

(৯) কলকাতার বিশাল বাজার

হলদিয়া বন্দরের নিকটবর্তী কলকাতা সমগ্র পূর্বাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বাজার যা শুধু ভারত নয়, পার্শ্ববর্তী নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ, চিন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, হংকং সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য বিভিন্ন দেশে প্রসারিত।

→ এই বিশাল বাজারকে ঠিকমতো কাজে লাগানো গেলে হলদিয়া বন্দরের উন্নতির সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল। এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছাড়াও (১০) সরকারি আনুকূল্য এবং (১১) সমভাবাপন্ন জলবায়ু হলদিয়া বন্দর গড়ে ওঠার অন্যতম কারণ।

Leave a reply